দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের সদর উপজেলার যাত্রাপুর গরুর হাটে অবকাঠামোগত উন্নয়নের অভাবে সামান্য বৃষ্টিতেই হাঁটু সমান কাঁদা ও পানিতে ভোগান্তিতে পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। জেলার সবচেয়ে বড় এই পশুর হাটে কোটি টাকার বেচাকেনা হলেও পরিবেশের অবনতির কারণে ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন এবং অনেকে চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটের মাঠজুড়ে কাঁদা ও জমে থাকা পানির মধ্যে গবাদিপশু নিয়ে দাঁড়িয়ে আছেন বিক্রেতারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাঁদায় দাঁড়িয়ে থাকায় অনেক ব্যবসায়ীর পায়ে চর্মরোগ দেখা দিচ্ছে। অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের কারণে অনেক ক্রেতা হাটে আসতে আগ্রহ হারাচ্ছেন।
প্রতি শনিবার ও মঙ্গলবার বসা যাত্রাপুর হাটে শুধু কুড়িগ্রাম নয়, আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও ক্রেতা-বিক্রেতারা আসেন। সরকারি হিসাবে, চলতি বছরে ভ্যাট ও ট্যাক্সসহ প্রায় ১ কোটি ৯৮ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে এই হাট থেকে।
হাটের ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, ‘হাটে সব সময় কাঁদা ও নোংরা পানি জমে থাকে। এতে চলাফেরা করা যায় না, বাইরে থেকে ব্যবসায়ীরাও আসতে চায় না।’
গরু বিক্রেতা নজু মিয়া বলেন, ‘এত বড় একটি হাট থেকে সরকার কোটি টাকা রাজস্ব নেয়, কিন্তু কাঁদা পানির কারণে আমরা ঠিকমতো ক্রেতা পাই না। অনেকেই হাটে এসে ফিরে যায়, এতে আমাদের লোকসান হচ্ছে।’
হাটের ইজারাদার রহিম উদ্দিন হায়দার রিপন বলেন, সামান্য বৃষ্টিতেই হাটে হাঁটু সমান পানি জমে যায়। দূরদূরান্ত থেকে আসা অনেক মানুষ দুর্ভোগে পড়ে ফিরে যান। তিনি দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দাবি জানান।
কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, উপজেলায় মোট ২২টি হাটের মধ্যে যাত্রাপুর হাট সবচেয়ে বড়। এর অবকাঠামো উন্নয়ন ও একটি কসাইখানা নির্মাণের জন্য প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি হাটের রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করতে ইজারাদারদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এমএস/